পদ্ধতি এবং হিসাব, রেজিষ্টার, ফরম প্রভৃতি

পরিচ্ছেদ ৩- হিসাব |পদ্ধতি এবং হিসাব, রেজিষ্টার, ফরম প্রভৃতি

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পরিচ্ছেদ ৩- হিসাব

পরিচ্ছেদ ৩- হিসাব

 

পরিচ্ছেদ ৩- হিসাব

 

বিধি-১৩২৮।

কারাগারের হিসাব সম্পূর্ণ দুটি স্বতন্ত্র বিভাগে বিভক্ত হবে- উৎপাদন বিভাগ এবং সাধারণ বিভাগ। কতিপয় ফরম এবং রেকর্ড ব্যবহারের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও উভয় প্রকারের হিসাব পদ্ধতি একই প্রকারের হবে। উৎপাদন বিভাগে কাঁচামাল, উৎপাদিত দ্রব্য, উৎপাদনে ব্যবহৃত ষ্টক প্রভৃতির হিসাব রাখা হবে। অবশিষ্ট সকল হিসাব সাধারণ বিভাগ কর্তৃক সম্পাদিত হবে।

বিধি-১৩২৯।

দৈনিক বই এবং লেজার প্রত্যহ সকালে পরীক্ষা করতে হবে এবং কোন কারণেই পরে করার জন্যে ফেলে রাখা যাবে না। 

বিধি-১৩৩০।

কোন দলিল,রেজিষ্টার বা হিসাবে কাটা ছেঁড়া বা ঘষা মাজা করা যাবে না। কোন ভুল হয়ে থাকলে তা লাল কালিতে একটানে কেটে এর উপরে সঠিক লেখা লিখতে হবে এবং দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষর প্রদান করতে হবে।

বিধি-১৩৩১।

প্রত্যেক মাস শেষ হবার পরবর্তী ১৫ তারিখের মধ্যে কারা মহাপরিদর্শকের নিকট মাসিক হিসাব সমাপ্তির একটি সার্টিফিকেট ৪ নম্বর রিটার্নে প্রেরণ করতে হবে। প্রেরণের পূর্বে জেল সুপার প্রত্যেক হিসাবে স্বাক্ষর প্রদান করবেন।

বিধি-১৩৩২।

জেল সুপার প্রত্যেক বৎসরের ৩১ শে জুলাইয়ের মধ্যে বার্ষিক বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব কারা মহাপরিদর্শকের নিকট ১৮ নম্বর রিটার্নে প্রেরণ করবেন এবং কারা মহাপরিদর্শক বাজেটে কারাগারের সকল প্রকার প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের সংস্থান রাখার ব্যবস্থা করবেন।

বিধি ১৩৩৩-১৩৩৪ ।

অকার্যকর।

বিধি-১৩৩৫ ।

বিক্রয় বাবত বা পাওনা আদায় বাবত মোট টাকার অংক জেলা কারাগারে পঞ্চাশ টাকা এবং কেন্দ্রীয় কারাগারে একশত টাকা হলে ট্রেজারীতে জমা রাখতে হবে। 

বিধি-১৩৩৬।

ঠিকাদারদের আর্নেস্ট মানি ট্রেজারীতে ‘রেভিনিউ জমা’ খাতে রাখতে হবে। সিকিউরিটি মানি প্রমিজারী নোট বা পোস্ট্যাল ক্যাশ সার্টিফিকেট হিসাবে রাখতে হবে।{তবে তিন মাসের মধ্যে ঠিকাদারকে টাকা ফেরত না দিতে হলে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নিরাপদে রাখতে হবে । }

নং- ২৮৫৭ এইচ জে তারিখ ২৮-৮-১৯৪১ মূলে সংযোজিত ।

বিধি-১৩৩৭।

সকল প্রকার জরুরী পেটি ব্যয় মিটানোর প্রয়োজনে সাধারণ এবং উৎপাদন বিভাগে ১০০ টাকা করে পৃথক স্থায়ী অগ্রিমের ব্যবস্থা থাকবে। এ সকল টাকা মাসের যে কোন সময় বিলের মাধ্যমে সমন্বয় করা যাবে। প্রত্যেক বছর ১৫ এপ্রিল মহা-হিসাব রক্ষকের নিকট প্রতিবেদন প্রদান করতে হবে যে জেল সুপারদের হাতে স্থায়ী অগ্রিম হিসাবে বরাদ্দকৃত টাকা মজুত আছে ।

বিধি-১৩৩৮।

কারাগারের নগদ তহবিলের নিরাপত্তার জন্যে জেলার দায়ী থাকবেন। কেন্দ্রীয় কারাগারে ডেপুটি জেল সুপার উৎপাদন বিভাগের টাকার হিসাব ও নিরাপত্তার জন্যে দায়ী থাকবেন।

বিধি-১৩৩৯ ।

খরচের খাত- বর্তমানে বাজেটের কোড ভিন্নরূপ।

বিধি-১৩৪০।

নিম্নোক্ত ব্যয়ের জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের অনুমোদন প্রয়োজন হবে-অতিরিক্ত সংস্থাপন, নির্মাণ, মেরামত, নুতন অফিস আসবাবপত্র, কনজারভেন্সী বা পানি সরবরাহের প্রয়োজনে ৫০ টাকার বেশী মূল্যের লোহার পাত্র ক্রয়, জমির খাজনা, হাসপাতালের বেড, হ্যান্ডকাপ, তালা, উৎপাদন কাজের প্ল্যান্ট, বড় ধরনের যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং অন্য যে কোন ক্ষেত্রে যেখানে বাজেট বরাদ্দ ব্যয় মিটানোর জন্যে পর্যাপ্ত নয় ।

বিধি-১৩৪১।

(১) কোন ব্যয়ের অনুমোদনের জন্যে প্রস্তাবে খাত উল্লেখ করতে হবে, যদি খাতের বরাদ্দ পর্যাপ্ত না হয়, অন্য খাত থেকে উপযোজন সম্ভব কিনা তাও উল্লেখ করতে হবে।

 (২) কোন আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা অতিরিক্ত মঞ্জুরী পাবার পূর্বে কোন খাত হতে প্রাপ্ত বরাদ্দের অতিরিক্ত ব্যয় করবেন না ।

(৩) সকল সম্পাদিত ব্যয় পরিশোধ করতে হবে, পরবর্তী বৎসরের খাত হতে পরিশোধ করার উদ্দেশ্যে রেখে দেয়া যাবে না ।

বিধি-১৩৪২।

সাধারণ এবং উৎপাদন উভয় বিভাগে আনুষঙ্গিক ব্যয়ের পৃথক রেজিষ্টার রাখতে হবে ।

 

বিধি-১৩৪৩।

(১) সেবা এবং সরবরাহ গ্রহণ এবং নিষ্পত্তি হবে-

                                 (ক) নগদ লেনদেনের মাধ্যমে,

                                 (খ) আন্ত এবং অন্ত: বিভাগীয় সরবরাহ ।

 (২) হিসাব নিষ্পন্ন হবে-

                                 (ক) ট্রেজারী বিলের মাধ্যমে,

                                 (খ) আন্ত এবং অন্ত : বিভাগীয় ট্রান্সফার( বুক ট্রান্সফার)।

 বিধি-১৩৪৪।

(১) সকল প্রকার সরবরাহ ষ্টোর অর্ডার আকারে কিংবা চুক্তির ফরমে হবে।

(২) আন্ত বিভাগীয় সরবরাহ ষ্টোর অর্ডার আকারে হবে ।

(৩) নগদে বা বাকীতে সরবরাহ কারাগারের গুদামের বাহিরে ‘ষ্টোর ডেলিভারী অর্ডার’ আকারে হবে ।

(৪) আন্ত বা অন্ত: বিভাগীয় সরবরাহ ১৩৬২ (২) বিধি মোতাবেক হবে।

বিধি-১৩৪৫।

কারাগারে উৎপাদিত পণ্যের বিক্রয় মূল্য বাজারে অনুরূপ দ্রব্যের বিক্রয় মূল্য অনুসারে যথা সম্ভব নির্ধারণ করতে হবে। যদি অনুরূপ বাজার মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব না হয়, তখন নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে তা নির্ধারণ করতে হবে-

(ক) কাঁচা মালের মূল্য;

(খ) আশে পাশে প্রচলিত দর অনুসারে কারাগারে যে শ্রম নিয়োজিত হয়েছে, তার মুল্য; (1) (3)

(গ) কাঁচামালের মূল্যের উপর ৫%, প্ল্যান্টের ব্যবহার মূল্য বাবদ;

(ঘ) কাঁচামাল এবং শ্রমের মূল্যের উপর ১০% লাভ- সরকারী বা পাইকারী বিক্রয়ের ক্ষেত্রে, ১৫% লাভ-খুচরা ডিলারের ক্ষেত্রে এবং ২৫% লাভ- সাধারণ ক্রেতাদের ক্ষেত্রে

(ঙ) প্যাকিং এবং অন্যান্য ব্যয় ।

কারা অধিদপ্তর এবং তার অধীনস্থ অফিসের ক্ষেত্রে কেবল মাত্র কাঁচা মালের মূল্য আদায় যোগ্য হবে।

নং- ১১০৯ এইচ জে তারিখ ১৫-৭-১৯৪৭ মূলেসংশোধিত ।

বিধি-১৩৪৬।

কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজের পকেট হতে কোন অগ্রিম পরিশোধ করবেন না। পেটি ব্যয় জেল সুপার স্থায়ী অগ্রিম হতে পরিশোধ করবেন । বড় অংকের পরিশোধের ক্ষেত্রে জেল সুপার নিয়ম মাফিক ট্রেজারী হতে বিলের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করবেন। ট্রেজারী হতে যে কাজের উদ্দেশ্যে টাকা উত্তোলন করা হবে, সঙ্গে সঙ্গে সে কাজে টাকা পরিশোধ করে দিতে হবে, উত্তোলিত টাকা ৪৮ ঘন্টার বেশী হাতে জমা রাখা যাবে না। আসন্ন খরচের প্রয়োজন না হলে ট্রেজারী হতে কোন টাকা উত্তোলন করা যাবে না ।

স্থায়ী অগ্রিম, বন্দীদের সম্পত্তি, উৎপাদিত দ্রব্য বিক্রয়ের টাকা এবং সম্ভাব্য পেটি ব্যয় ব্যয় ছাড়া কোন টাকা হাতে রাখা যাবে না ।

বিধি-১৩৪৭।

যদি কোন দ্রব্য ঠিকাদারের মাধ্যমে ক্রয় করা হয়, তাকে কোন অগ্রিম প্রদান ব্যতীতই তা করতে হবে, তবে মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে বিল পরিশোধ করতে হবে। ২৫ তারিখের পরের কোন ব্যয় পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

বিধি-১৩৪৮ ।

প্রয়োগ নেই ।

বিধি-১৩৪৯।

(১) প্রত্যেক পরিশোধের প্রাপ্তি রাখতে হবে। প্রাপ্তি সমূহ “নগদ পরিশোধের ভাউচার”-এ রাখতে হবে।

(২) প্রত্যেক খাতের খরচের জন্যে পৃথক প্রাপ্তি রাখতে হবে। বিশ টাকার অধিক পরিশোধের জন্যে রাজস্ব টিকেট প্রয়োজন হবে। (৩) প্রত্যেক নগদ পরিশোধের একটি বার্ষিক ক্রমিক নম্বর দিতে হবে।

বিধি-১৩৫০।

দুটি ক্যাশ বহি (রেজিষ্টার ৩১) সংরক্ষণ করতে হবে- একটি সাধারণ বিভাগ এবং অন্যটি উৎপাদন বিভাগের জন্যে ।

(i) { উভয় বিভাগের ক্যাশ বহি জেলার নিজে পরীক্ষা করবেন, তবে কেন্দ্রীয় কারাগারে সার্বক্ষণিক ডেপুটি সুপার থাকলে উৎপাদন বিভাগের ক্যাশ বহি তিনি পরীক্ষা করবেন। জেল সুপার দিন শেষে ক্যাশ বহির ব্যালান্স পরীক্ষা করে দেখবেন এবং বিধি ৮৫ মোতাবেক মাসের শেষে প্রত্যেক কলামের ব্যালান্স পরীক্ষা করবেন}। ক্যাশ বহি দুটি সম্পূর্ণ আলাদা হবে, এবং {কারাগারে} আগত বা কারাগার হতে ব্যয়কৃত সকল টাকা যে কোন একটি ক্যাশ বহিতে অন্ত র্ভুক্ত হবে।

সংস্থাপন এবং ব্যবস্থাপনা, বন্দীদের নগদ টাকা, সিভিল বন্দীদের ডায়েট মানি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জামানত সাধারণ ক্যাশ বহিতে এবং উৎপাদন বিভাগ সম্পর্কিত আয়-ব্যয় উৎপাদন ক্যাশ বহিতে রক্ষিত হবে।

(ii) {ক্যাশ বহিতে লিপিবদ্ধ যাবতীয় আর্থিক লেনদেন জেল সুপার কর্তৃক সত্যায়িত হবে। তবে কেন্দ্রীয় কারাগারে সার্বক্ষণিক ডেপুটি সুপার থাকলে উৎপাদন বিভাগের ক্যাশ বহি তিনি সত্যায়িত করবেন।}

নং- ১৯৪ এইচ জে তারিখ ২৬-৬-১৯৩৭, নং- ৮৫৩ এইচ জে তারিখ ১৪-৩-১৯৪১ এবং নং-

৩৪৫ এইচ জে তারিখ ২৬-২-১৯৫৮ মোতাবেক সংশোধিত ।

 

পরিচ্ছেদ ৩- হিসাব

 

বিধি১৩৫১-১৩৮৮।

ক্যাশ বই লিখন, হিসাব ও আন্ত: বিভাগীয় লেন দেন, সরবরাহ, রেলওয়ে ক্রেডিট, রেজিষ্টার, রিটার্ন এবং ফরমের তালিকা।

প্রথম খন্ড (পার্ট-II)- সাবসিডিয়ারি জেল কোড।- বর্তমানে দেশে কোন সাবসিডিয়ারি কারাগার নেই বিধায় প্রয়োগ নেই ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।