ট্যাগ আর্কাইভঃ ভূমি প্রশাসন বোর্ড

ভূমি প্রশাসন বোর্ড

ভূমি প্রশাসন বোর্ড

আজকে আমরা  ভূমি প্রশাসন বোর্ড সম্পর্কে আলোচনা করবো।

 

ভূমি প্রশাসন বোর্ড
ভূমি প্রশাসন বোর্ড

 

ভূমি প্রশাসন বোর্ড

মেমো নং- ৩০৫ (৪২৫) ১০-১২৬/৮২ বি. এল. এ                                                                          তারিখ : ১০-১১-৮২ ইং

প্রাপক জেলা প্রশাসক,

উপজেলা রাজস্ব অফিসার

বিষয়ঃ রেকর্ড-অব-রাইট সংরক্ষণ

জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪২ ধারায় বিধান রাখা হয়েছে যে, ৪র্থ খণ্ডে বা এই খণ্ডের বিধানমতে প্রণীত রেকর্ড সংরক্ষণ করবেন। এই সংশোধন কার্যক্রমে নিম্নোক্ত কারণে পরিবর্তনসমূহ প্রতিফলিত হতে হবেঃ

(ক) উত্তরাধিকার বা হস্তান্তরমূলে মালিকানা পরিবর্তন:

(খ) সরকার কর্তৃক ক্রয়কৃত খাস জমি বন্দোবস্তু; এবং

(গ) পরিত্যক্ত বা পয়স্তির কারণে খাজনা মওকুফ; নামজারীর জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতা উপজেলা রাজস্ব অফিসারগণকে প্রদান করা হয়েছে।

অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ করা হয়েছে যে এতদসংক্রান্ত সরকারি নির্দেশসমূহ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। বাঞ্ছিত সংখ্যক নামজারীর কেইস নিয়মিতভাবে নিষ্পত্তি করার জন্য কোন সঠিক প্রচেষ্টা চালানো হয়নি এবং থানা রাজস্ব অফিসারের নিকট বিপুল সংখ্যক নামজারীর কেইস অনিষ্পত্তিকৃত অবস্থায় পড়ে আছে। ভূমিস্বত্ত্ব রেকর্ড হালকরণ না হওয়ায় কর আদায়, জমি হস্তান্তর রেজিস্ট্রিকরণ, জমি বন্দোবস্ত ইত্যাদি কাজে জটিলতা দেখা দিয়েছে। রাজস্ব প্রশাসন স্ট্যাণ্ডার্ড বজায় রাখার ক্ষেত্রে নামজারী সময়মত না হওয়ায় বিলুপ্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। এই ব্যাপারে সকলের সুবিধার্থে সরকারি নির্দেশসমূহ বাংলায় পুনরায় জারি করা

ভূমি প্রশাসন বোর্ড :

শাখা-১০

স্মারক নং-৮১/৮০/১৬ বি. এল. এ.

প্রাপক জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার                                                                                                                          তারিখ ১৭-২-৮৩

বিষয়ঃ জরিপ চলাকালে নামজারী প্রসঙ্গে।

কক্সবাজার জেলায় বিগত দশ বছর যাবৎ রিভিশনাল সেটেলমেন্ট জরিপ চালু রয়েছে। কক্সবাজার জেলার রাজত্ব কর্তৃপক্ষ একটি প্রশ্নের অবতারণা করে জরিপ চলাকালে নামজারী স্থগিত থাকবে কিনা” এই মর্মে ভূমি প্রশাসন বোর্ডের নির্দেশ চেয়েছেন।

একথা সকলেই অবগত আছেন যে, ভূমি দখল ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৩ ধারা মোতাবেক নামজারী বা ‘মিউটেশন’ করা হয় এবং তজ্জন্য রেকর্ড সংশোধন হয়ে থাকে। আবার অত্র আইনের ১৪৪ ধারামতে রিভিশনাল সেটেলমেন্ট অপারেশন পরিচালনা করা হয়, ১৪৪ ধারার ‘বি’ অনুচ্ছেদের ২ নং উপ-ধারা মোতাবেক রিভিশনাল জরিপ চলাকালে কোন সিভিল কোর্ট ও স্বত্ব দখল নির্ণয় করার নিমিত্ত কোন মোকদ্দমা গ্রহণ করতে পারে না।

২। উপরোক্ত আইন বিশেষভাবে পর্যালোচনা করলে যে ক’টি কথা পরিষ্কার হয়ে দাঁড়ায় তা নিম্নরূপঃ

(ক) জরিপ চলাকালে রাজস্ব অফিসারগণ সরেজমিনে উপস্থিত থেকে সকল দলিলপত্র পরীক্ষা করে এবং পারিপার্শ্বিক সমস্ত সংবাদ সংগ্রহ করে যে কোন বিতর্কিত বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত দানে ও গ্রহণে সক্ষম হন। শুধু তাই নয়, রেকর্ডে দুই পক্ষকে সামনে রেখে হুকুম তামিল করা হয় ।

(খ) সেটেলমেন্ট জরিপের মাধ্যমে রেকর্ড আধুনিকীকরণ করা হয়, জরিপের প্রধানতম লক্ষ্য হইল ভূমি মালিকের স্বত্ব দখল, ভূমির বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে হালকরণ, এতে কতকগুলো কাজ, যেমনঃ

(চ) ভূমি মালিকের মৃত্যুর কারণে ওয়ারিশগণের নাম রেকর্ড করা,

(ছ) ভূমি ক্রয়-বিক্রয় হলে তার রেকর্ড তৈরি করা, ও

(জ) খাস জমি বা চর জমি বন্দোবস্ত হলে রেকর্ড প্রতিফলন করা এবং জমির খাজনা ধার্য করা।

 

ভূমি প্রশাসন বোর্ড
ভূমি প্রশাসন বোর্ড

 

৩। জরিপ চলাকালে সরেজমিনের সহিত রেকর্ডের প্রতিফলনের ক্ষেত্রে একটি বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, যাতে উক্ত আইনের ১১৭ ধারার বর্ণিত নিয়মে ভূমির হোল্ডিং পৃথকীকরণ ও ১১৬ ধারামতে ভূমির হোল্ডিং একত্রীকরণের কাজও ঠিকমত হয়। শুধু তাই নয়, শরিকে শরিকে বিবাদ এবং মালিকে মালিকে বহুদিনের মামলা মোকদ্দমাসমূহ আপনা-আপনি মীমাংসার চূড়ান্তরূপ ধারণ করে।

যেহেতু জায়গা জমির ব্যাপারে জরিপের মাধ্যমে সকল বিষয় ঠিকমত সমাধা হয়, সেহেতু সিভিল কোর্টেও নতুন মামলা গ্রহণ করা হয় না ও পুরাতন মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়।

সম্ভবত উপরোক্ত কারণবশতই কক্সবাজার সেটেলমেন্ট জরিপ অপারেশন এলাকায় ‘মিউটেশন’ বা নামজারীর কাজ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।

আমরা মনে করি বঙ্গীয় জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৩ ও ১৪৪ ধারা পৃথক পৃথক দু’টি ধারা এবং এদের কাজ একটি অপরটির সম্পূরক ও সম্পর্কযুক্ত, কিন্তু কোন মতেই এক ধারার কাজ অন্য ধারার কাজের প্রতিবন্ধক হয় না। অতএব, জরিপ চলাকালে ১৪৩ ধারা মোতাবেক মিউটেশন বা নামজারীর কার্যক্রম বন্ধ রাখা ঠিক নয়।

বোর্ড অব ল্যাও এ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্রশাসনের চেয়ারম্যান আপীল শুনতে গিয়ে আমি যে বিষয়ের সম্মুখীন হন, সেই সম্বন্ধে রাজস্ব অফিসারগণকে নিম্নোক্ত বিষয়ের প্রতি সতর্ক হতে হবে

১। নামজারী ও স্বত্বের মামলা এক নয়। স্মরণ করা যায় যে, কোন কোন ক্ষেত্রে একতরফা ডিক্রী নিয়ে বঙ্গীয় জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৫৪ ধারা উল্লেখ করে নামজারী মোকদ্দমা দাখিল হয়েছে ও হচ্ছে এবং রাজস্ব অফিসার ভুলক্রমে তারই ভিত্তিতে রেকর্ড পরিবর্তন করে আরও মামলা মোকদ্দমা ও জটিলতা সৃষ্টি করেছেন এবং অন্যক্ষেত্রে সরকারি জমি অন্যের নামে রেকর্ড করে পরোক্ষভাবে আইনের পরিপন্থীভাবে রেকর্ড করে যাচ্ছেন ।

এ প্রসঙ্গে মনে রাখতে হবে, যেদিন হতে যে জেলায় ভূমি দখল আইনের ৫ম অধ্যায় প্রয়োগ করা হয়েছে, সেদিন হতে ৫৪ ধারা অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে অর্থাৎ তার আর প্রয়োজন নেই।

২। ১৪৩ ধারামতে জমিজমা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ও ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত জমির জন্য নামজারী হয়, এবং নামজারী মোকদ্দমা করতে গিয়ে যে যে ক্ষেত্রে স্বত্ব দখল বিষয়ের বিবাদের সৃষ্টি হয় সেই বিষয়েই কেবল আদালতের আশ্রয় গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয় । সেহেতু জরিপ চলাকালে বিরোধীয় বিষয় নামজারী মোকদ্দমার মাধ্যমে চূড়ান্ত হলে জরিপের ফাইনাল রেকর্ডের সাথে (management side) (ব্যবস্থাপনা)-এর রেকর্ড ব্যতিক্রম হতে পারে।

আবার জরিপ চলাকালে নামজারীকৃত রেকর্ডসমূহ জরিপ অফিসারের নিকট উপস্থাপিত না হলে চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত রেকর্ডে তার প্রতিফলন ঘটবে না। অন্যক্ষেত্রে চূড়ান্ত প্রকাশিত রেকর্ড সর্বক্ষেত্রে খাজনা ও জমি সংক্রান্ত বিষয়ে কাজে লাগাতে হবে এবং জমির দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর-এর আমূল পরিবর্তন হওয়ার দরুন পুরনো রেকর্ডের ব্যবহার নিষিদ্ধ হবে। সুতরাং, নিম্নলিখিত রূপ উপদেশ দেয়া যায়

(ক) ১৪৪ ধারা মোতাবেক জরিপ চলাকালে ১৪৩ ধারামতে কার্যক্রম বন্ধ রাখা সমীচীন হবে না।

(খ) যে যে ক্ষেত্রে জরিপ চলছে সেই সেই ক্ষেত্রে ১৪৩ ধারা মোতাবেক প্রদত্ত রায়গুলো চলতি জরিপ অফিসারের সম্মুখে অবশ্যই উত্থাপনের ব্যবস্থা রাখতে হবে, এবং

(গ) ১৪৩ ধারায় মোকদ্দমা করতে গিয়ে বিরোধীয় বিষয়গুলো সরাসরি জরিপ অফিসারের নিকট উপস্থাপন করার জন্য পক্ষগণকে উপদেশ দেওয়া উচিত এবং সেক্ষেত্রে ১৪৩ ধারার কার্যক্রম স্থগিত রাখা বা প্রয়োজনবোধে বাতিল করা বাঞ্ছনীয় ।

 

ভূমি প্রশাসন বোর্ড
ভূমি প্রশাসন বোর্ড

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
ভূমি প্রশাসন বোর্ড
ঢাকা

বিষয়ঃ নামজারী, জমা খারিজ ও একত্রীকরণ।

জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৪৩ ধারা মোতাবেক জমির মালিকের স্বত্ত্ব বা রেকর্ড অরাইটস সঠিকভাবে সংরক্ষণের উপর সুষ্ঠু ভূমি প্রশাসন ব্যবস্থা অনেকখানি নির্ভরশীল।

উত্তরাধিকারসূত্রে বা রেজিস্ট্রিকবলামূলে প্রত্যেক মালিকানা পরিবর্তনের সময় নামজারীর স্বার্থে জমা খারিজ বা জমা একত্রীকরণের কাজ একই সঙ্গে সম্পন্ন করা বাঞ্ছনীয় ।

জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৩ ধারা এবং তৎসহ ১১৬ বা ১১৭ ধারার বিধান মোতাবেক সরেজমিনে ভূমি মালিকানার প্রকৃত অবস্থা রেকর্ড-অব-রাইটে প্রতিফলনের জন্য রাজস্ব অফিসারগণকে সক্রিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এই বিষয়ে রাজস্ব অফিসারগণ নিম্নলিখিত নীতি নির্দেশ অনুসরণ করিবেন

(ক) খাজনা আদায় এবং রেকর্ড অব রাইট সঠিকভাবে সংরক্ষণের জন্য নামজারীকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে গণ্য করতে হবে ।

(খ) ১৪৩ ধারা ও তৎসহ ১১৭ ধারার আওতায় নামজারী কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য সরেজমিনে তদন্ত প্রয়োজন হতে পারে।

(গ) অনুরূপভাবে ১৪৩ ধারা ও তৎসহ ১১৬ ধারার আওতায় খতিয়ান জমা একত্রীকরণের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।

৩। উপরোক্ত নিয়মে যখনই কোন নামজারীর কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়, তখনই নির্ধারিত ছকে একটি নতুন খতিয়ান খুলতে হবে। সংশ্লিষ্ট রাজস্ব অফিসার খতিয়ান যথানিয়মে স্বাক্ষর ও সীলমোহরযুক্ত করবেন। এর কপি সংশ্লিষ্ট তহসিল অফিসে ও জেলা প্রশাসকের রেকর্ডরুমে প্রেরণ করতে হবে এবং একটি কপি মূল খতিয়ান বইতে সংযোজিত করতে হবে।

৪। নামজারীজনিত নতুন খতিয়ানের নম্বর কোন বর্তমান খতিয়ানের নম্বরের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবে না। বস্তুতপক্ষে নতুন খতিয়ানের নম্বর এমনভাবে দিতে হবে যাতে এটি মূল খতিয়ানের সাথে সম্পর্কিত থাকে। যদি কোন খতিয়ানের সমুদয় সম্পত্তি কারও নিকট উত্তরাধিকারসূত্রে বা কবলামূলে হস্তান্তরিত হয়ে থাকে তবে নতুন খতিয়ানে পুরাতন খতিয়ান নং অপরিবর্তিত থাকাই বাঞ্ছনীয়। যদি কোন খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি একাধিক ব্যক্তির নিকট উত্তরাধিকার বা কবলামূলে হস্তান্তরিত হয়ে থাকে,

তবে প্রত্যেক মালিকের জন্য ভিন্ন খতিয়ান প্রণয়নকালে একটি বাটা নম্বর দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ মূল খতিয়ান নং-১০ হলে, প্রথম নতুন বিভক্ত খতিয়ান নং ১০/১, ২য় খতিয়ান ১০/২ ইত্যাকারে নতুন খতিয়ান খুলতে হবে। কিন্তু পুরাতন খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তির মালিকের নামে কিছু সম্পত্তি বহাল থাকলে তার খতিয়ানের জন্য পুরাতন খতিয়ান নং অপরিবর্তিত থাকবে।

পূর্বোক্ত অনুচ্ছেদে বর্ণিত উদাহরণের অনুসরণে খতিয়ান বিভক্তিকরণের ক্ষেত্রে ডিমাও রেজিস্টারে (২ নং রেজিস্টার) পৃথক হোল্ডিং খুলতে হবে। ২ নং রেজিস্টারের শেষ ভাগে ক্রমিক নম্বর হোল্ডিং খুলতে হবে এবং ” তারিখের কেইস মূল হোল্ডিং নম্বর খোলা হল” এই মর্মে প্রত্যয়ন লিপিবদ্ধ করতে হবে। ডিমার নম্বর নামজারী। রেজিস্টারে উপজেলা রাজস্ব অফিসার বা ফিল্ড কানুনগো এই প্রত্যয়ন স্বাক্ষর করবেন।

 

 

এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এস এ অপারেশন মোতাবেক প্রণীত খতিয়ানে বর্ণিত হোল্ডিং-এর আইনগত বা বাস্তব ভিত্তি রয়েছে। তথাপি সর্বশেষ হোল্ডিং-এ উপজেলা রাজস্ব অফিসার বা ফিল্ড কানুনগো কর্তৃক অনুরূপভাবে “এস এ. অপারেশন মোতাবেক শেষ হোল্ডিং” এই প্রত্যয়ন লিপিবদ্ধ করতে হবে। অনুরূপভাবে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলায় যেখানে জরিপ কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে সেখানে চূড়ান্ত প্রকাশিত রেকর্ড অবরাইট অনুসরণে ডিমাও রেজিস্টার তৈরি করার সময়ও এ নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

নামজারী কার্যক্রম, কি অবস্থায় নামজারী করা যায় এবং নামজারী কেইস নিষ্পত্তির পদ্ধতি ইত্যাদি ব্যাখ্যা করে ইতিপূর্বে ১০-১১-৮২ তারিখের ৩০৫ (১২৫-১০- ১২৬/৮২) বি. এল. এ নম্বর স্মারক জারী করা হয়েছে। এই সার্কুলার অনুসরণ করার জন্য সকলকে অনুরোধ করা যাচ্ছে। সাবেক জরিপের রেকর্ড-অবরাইট, মৌজা, মানচিত্র, রেজিস্ট্রিকৃত দলিল ইত্যাদি কাগজপত্র নামজারী কেইস নিষ্পত্তির জন্য যত্নের সাথে পর্যালোচনা করতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজাদির কপি নামজারীর মামলার শুনানীর সময় মূল দলিলাদি সংশ্লিষ্ট পক্ষের নিকট প্রত্যর্পণ করতে হবে। চূড়ান্তকরণের পর খতিয়ান খুলতে হবে। ২৫.০০ (পঁচিশ) টাকা ফি প্রদান করলে পক্ষকে খতিয়ানের কপি প্রদান করতে হবে সংশোধিত আদেশ নং এ. এস. ১৭/৮৪/৪৭ বি. এল. এ তাং ১০-১-৮৬। খতিয়ান স্বাক্ষরিত ও সীলমোহর করতে হবে।

উত্তরাধিকার প্রমাণের পর সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ম্যাজিস্ট্রেট, ১ম শ্রেণীর অফিসার, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা স্থানীয় এমপি হতে উত্তরাধিকার প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। মুসলমানদের ক্ষেত্রে মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসা শিক্ষক বা উকিল প্রদত্ত ‘ফরায়েজ’ এবং হিন্দুদের ক্ষেত্রে পণ্ডিত বা উকিল প্রদত্ত উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্য সম্পত্তির পরিমাণ সম্পর্কিত প্রত্যয়নপত্র নির্ভরযোগ্য বলে গণ্য করা যাবে।

নামজারী প্রক্রিয়া একটি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম হিসাবে গণ্য করতে হবে। সামান্য ভুল-ভ্রান্তি মারাত্মক আইনগত জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিক্রেতার হস্তান্তরিত সম্পত্তিতে কোন/ স্বত্ব/নখল অধিকার ছিল কিনা তা প্রধান বিবেচ্য বিষয়। হস্তান্তরকারীর মালিকী অংশের সম্পত্তির দলিল ক্রেতার নিকট হস্তান্তর হয়েছে কিনা তা যাচাই করা।

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিধান ও মুসলিম হিন্দু আইনমতে 1 হস্তান্তরসিদ্ধ না হলে কোন হস্তান্তর কার্যক্রম আইনগত স্বীকৃতি পেতে পারে না। নামজারী কার্যক্রমে কোন সমস্যা দেখা দিলে তা বোর্ডের বিবেচনা ও নির্দেশের জন্য বোর্ডের নিকট পেশ করতে হবে।